অ-সংক্রামক রোগ (NCD) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর

২০ আগস্ট, ২০২৫ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এক ঐতিহাসিক দিন। প্রথমবারের মতো ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অ-সংক্রামক রোগ (NCD) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেনঃ নূরজাহান বেগম, মাননীয় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা; অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান, মাননীয় বিশেষ সহকারী এবং মোঃ সাইদুর রহমান, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এই ঘোষণা সর্বাত্মক সরকারি (Whole of Government) এবং সর্বাত্মক সামাজিক (Whole of Society) উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ অ-সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে একটি বড় পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG-3) এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (UN 2025 Political Declaration on NCDs) অর্জনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সদয় উপস্থিতিতে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধির নিমিত্ত ৩৫ টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ‘যৌথ ঘোষণা’য় স্বাক্ষর করার মাধ্যমে নিম্নোক্ত প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়

1. নীতি প্রণয়নে অগ্রাধিকারঃ
সব নীতিতে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য (Health in all Policies)’ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্মকৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং নির্ধারণে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার এবং প্রয়োজনবোধে বিদ্যমান নীতিসমূহে সংশোধন;

২. কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নঃ
জাতীয় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত সাশ্রয়ী (Cost-effective Best Buys) কার্যপন্থা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ মানব ও আর্থিক সম্পদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং অধস্তন দপ্তর/সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়সহ সকল স্তরে পরিকল্পিত কার্যক্রম তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা;

৩. জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সর্বজনীন অংশগ্রহণঃ
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম সর্বাত্মক সরকারি (Whole of Government) এবং সর্বাত্মক সামাজিক (Whole of Society) উদ্যোগ গ্রহণ করা যেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়;

৪. সমন্বয় ও সহযোগিতাঃ
প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ জাতীয় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা সমন্বিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সমন্বয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা;

৫. অগ্রগতি পর্যালোচনাঃ
প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ‘যৌথ ঘোষণা’র অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করা এবং উল্লেখযোগ্য সফলতা সংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা; শনাক্তকৃত চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অ-সংক্রামক রোগ (NCD) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর

NCD

স্বাক্ষরকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ
১. সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ
2. সিনিয়র সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ
3. সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
4. সিনিয়র সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
5. সিনিয়র সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়
6. সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
7. সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়
8. সচিব, অর্থ বিভাগ
9. চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
10. সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ
11. সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
12. সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
13. সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়
14. সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ
15. সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়
16. সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
17. সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ
18. সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
19. সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ
20. সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ
21. সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
22. সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
23. সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়
24. সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ
25. সচিব, সমন্বয় ও সংস্কার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
26. সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
27. সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
28. সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
29. সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
30. সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ
31. সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
32. সচিব, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ
33. সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
34. সচিব, কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ
35. সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Chcpbd.com