কমিউনিটি ক্লিনিক কি সরকারি?

হ্যাঁ, কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি “কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ (CHCP) ” প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যা বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।কমিউনিটি ক্লিনিক (Community Clinic) একটি সরকারি উদ্যোগ। এটি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকের লক্ষ্য হলো— গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রতিটি ক্লিনিক ৬০০০ জনগণের জন্য স্থাপন করা হয় এবং এতে একটি করে সিএইচসিপি (CHCP) নিয়োজিত থাকেন, যিনি সরকার-নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী।

কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। যেখান থেকে গ্রামাঞ্চলের জনগনের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক নানাবিধ পরামর্শ দেয়া হয়, এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় প্রায় ৩০ ধরনের ঔষধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়, শিশু গর্ভবতী মহিলা ও কিশোরীদের টিকা প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনবোধে উন্নতর চিকিৎসা সেবার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল সহ মেডিকেল কলেজে সেবাগ্রহীতাকে রেফার করা হয়।

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ক্রয়কৃত জমিতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত একটি স্বাস্থ্য স্থাপনা। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবাদানকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চাকুরীরত ছিলো তবে বর্তমানে ট্রাস্টে রয়েছে। যাদেরকে গত ০৬ মার্চ ২০২২ তারিখে মহামাণ্য সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের অধীনস্থ করা হয়েছে।

 

পড়ুনঃ কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮ অবহিতকরণ

 

বিশ্বের প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতার নাম কমিউনিটি ক্লিনিক। যার মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে স্বাস্থ্যসেবা। কমিউনিটি ক্লিনিকের এই সাফল্য এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। পেয়েছে জাতিসংঘের স্বীকৃতি। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ওষুধ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকা, পারিবারিক পরিকল্পনা ইত্যাদি সেবা দেওয়া হয়।

গত এক বছরে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সেবা প্রদানকারীদের অনুপাত (তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন):

  • ১. ডাক্তার – ৭৮.২% (সর্বাধিক সেবা প্রদান করেছেন)
  • ২. কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) – ৪.৯% (দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেবা প্রদানকারী)
  • ৩. স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী – ১.৯%
  • ৪. মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (MA) – ১.৭%
  • ৫. এফডব্লিউভি (FWV) – ১.৬%

চিকিৎসকরা এখনো সেবাদানের শীর্ষস্থানে রয়েছেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, যা প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় তাদের গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। দিনে দিনে কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীন মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় আস্থার জায়গা হয়ে উঠছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য:

515504727-1964389270980836-7865669907527860133-n

প্রতিষ্ঠা:

  • ২০০০ সালে ২৬ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামে প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

  • কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মূল লক্ষ্য হল তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া, বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, পুষ্টি এবং সাধারণ স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা প্রদান করা।

কর্মপরিধি:

  • কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়, যেমন- গর্ভবতী মায়েদের প্রসব পূর্ব ও পরবর্তী যত্ন, শিশুদের টিকাদান, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরামর্শ।

জনবল:

  • কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করেন।

অর্থায়ন:

  • কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকেও সহায়তা পাওয়া যায়।

কার্যক্রম:

  • কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Discover more from Chcpbd.com - Community Clinic

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading