গত ৫৪ বছরে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় ও কার্যকরী সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হয় ওয়ার্ড লেভেলে প্রান্তিক স্বাস্থ্য সেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন। এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সরকার “কমিউনিটি ক্লিনিক” প্রকল্প চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ৬,০০০ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে ক্লিনিক স্থাপন করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগণের জন্য।
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারঃ আজ স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগে এই বিষয়ে একটি সেমিনার হয়ে গেল। জাগো বাহে কোন্ঠে সবাই।
- ১। গত ৫৪ বছরে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় সংস্কার হলো ওয়ার্ড লেভেলে প্রান্তিক স্বাস্থ্য সেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন।
- ২। পৃথক একটি দপ্তর তথা ট্রাস্ট করা স্বাস্থ্য সেবায় আর একটি বড় সংস্কার।
- ৩। ১৪ হাজার CCতে বছরে ১৬ কোটি সেবা গ্রহীতাকে সেবা দেয়া হয়। গত ১৫-২৫ বছরে প্রায় ২১৬ কোটি সেবা গ্রহীতাকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হয়েছে।
- ৪। ১৪ হাজার সার্ভিস প্রোভাইডারের চাকরী সরকারী হওয়ায় তাদের কাজের গতিশীলতা বেড়েছে।
- ৪। ডায়াবেটিক, প্রেশার ফাইন্ডআউট করে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। NCD রোগগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
- ৫। জ্বর সর্দি কাশী চুলকানী মাথাব্যথা, ছোটখাট একসিডেন্টের চিকিৎসা দেয়া হয় প্রান্তিক ৭০% হতদরিদ্র মানুষকে।
- ৬। সুস্থ মহিলাকে সারাজীবনের জন্য পংগু বানানোর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নরমাল ডেলিভেরি করানো হয় এবং তাতে উৎসাহিত করা হয়। মনে রাখতে হবে এটি একটি Natural process.
- ৭। লোকাল প্রশাসন তথা ডিসি ইউএনও কে সম্পৃক্ত করার ফলে প্রান্তিক স্বাস্থ্য সেবা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে এবং সিসিগুলো সাবলীল গতিতে চলছে।
- ৮। বিশ্বের ৭০ টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ওয়ার্ড লেভেলে এই সেবা সমাদৃত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এই কমিউনিটি ক্লিনিক বিজিট করে ভূয়সী পৃরশংসা করেছে।
- ১০। ১৪ হাজার সিসি বলতে গেলে একটি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি এলাকায় একটি শক্তিশালী প্লাটফ্রম হিসেবে গড়ে উঠেছে। এছাড়া এখানে ১৭ টি রেজিস্টারে যে পরিমান ডাটা তৈরী হচ্ছে তা দিয়ে নানা রকম গবেষণা চলছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা প্রদান করা হয়। CHCP (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার)-রা নিয়মিত ক্লিনিক চালান এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।
এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪,০০০+ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে, যা বিশ্বের জন্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ক্লিনিকগুলোতে ৭০% নারী সেবা গ্রহণকারী, যা নারী ও শিশুস্বাস্থ্যে ব্যাপক অগ্রগতির প্রমাণ। এই উদ্যোগের ফলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হয়েছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, নিরাপদ মাতৃত্ব বেড়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবার স্থাপনা নয়, এটি একটি জনমুখী, স্বল্পব্যয়ে টেকসই স্বাস্থ্যসেবার রোল মডেল, যা স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ও বৃহৎ সংস্কার বলে বিবেচিত হয়।


