কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংক্রান্ত অভিযোগ : বাস্তবতা ও দৃষ্টিভঙ্গি

অনেক সময় রোগীরা অভিযোগ করে যে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ কম দেয়া হয়। এই অভিযোগটা যে মিথ্যা বিষয়টা সে রকমও না। কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের উপর নির্ভর করে ক্লিনিকে আগত রোগীরা কেমন মেডিসিন পাবে। তবে যারা অভিযোগ করেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা আগে জেনে নিবেন কমিউনিটি ক্লিনিকে কি পরিমাণ মেডিসিন সাপ্লাই দেয়া হয়। জনগোষ্ঠীর তুলনায় সাপ্লাই যদি কম থাকে, সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঔষধ কমই দিবে।

অনেক সময় রোগীরা অভিযোগ করেন যে কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ হয় না কিংবা কম দেওয়া হয়। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা নয়, তবে সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্যও নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, ক্লিনিকের অবস্থান, এলাকার জনসংখ্যা, রোগের প্রকৃতি এবং সরকারের ওষুধ সরবরাহের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে ক্লিনিকে আগত রোগীরা কী ধরনের ও কতটুকু ওষুধ পাবেন, তা নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুনঃ কমিউনিটি ক্লিনিকে সরবরাহকৃত ঔষধের তালিকা ২০২৫

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত কিছু ওষুধ বরাদ্দ করা হয়। এই বরাদ্দ অনেক সময় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হতে পারে, বিশেষ করে জনবহুল এলাকায়। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সীমিত সরবরাহের মধ্যে থেকেই রোগীদের সেবা দিতে হয়। অনেক সময় একজন রোগী পূর্ণ ডোজ না পেয়ে আংশিক ডোজ পান, যেটি তাদের কাছে ‘কম দেওয়া’ বলে মনে হয়।

শুরুর দিকে আমার ক্লিনিকে আমিও পাতা পাতা মেডিসিন দিতাম। কারণ সে সময় ক্লিনিকে রোগী খুবই কম আসতো। যার ফলে পাতা পাতা ওষুধ দিলেও মাস শেষে আমার ঔষধ থেকে যেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিক এর প্রসার এবং প্রচারণা বাড়তে থাকে। একটা সময় গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক আস্থার জায়গা হয়ে উঠলো। মানুষ যে কোন ছোটখাটো রোগব্যাধি এবং পরামর্শের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে ছুটে আসে।

তাই যারা ওষুধ কম পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে—আপনারা আগে জেনে নিন, ঐ ক্লিনিকে কী পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ হয় এবং সেই ওষুধ কতজন রোগীর জন্য বরাদ্দ। যদি দেখা যায় যে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম, তাহলে বুঝতে হবে এটি স্বাস্থ্যকর্মীদের দোষ নয়, বরং একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। পরিশেষে, এই সমস্যা সমাধানে রোগী, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা চাহিদা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করে দাবি জানালে, ভবিষ্যতে ওষুধ সরবরাহের পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তাই এখন চাইলেও আগের মত পাতা পাতা ওষুধ দেয়া যায় না। কিছু ঔষধের পাতা কেটে দিতে হয়, আবার কিছু পুরো পাতা দেয়া যায়। দুঃখের বিষয় হল, দিনশেষে মানুষকে সন্তুষ্ট করা যায় না। কারণ বাঙালি বড় আজব জিনিস। এদেরকে সন্তুষ্ট করা এত সহজ বিষয় নয়। আপনি যত দিবেন, ততই এরা চাইবে। আমি, আপনি, আমরা কেউ এ নিয়মের বাইরে নয়। আমাদের সবার মধ্যেই কোনো না কোনোভাবেই এই স্বভাব রয়েছে। একটা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ দিন উপকারভোগী হয়ে কোন কারনে একদিন যদি আপনি উপকার না পান, তবে আপনি তার বিগত দিনের উপকারগুলোকে ভুলে গিয়ে অপকার নিয়েই হাইলাইট শুরু করবেন।

2 thoughts on “কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংক্রান্ত অভিযোগ : বাস্তবতা ও দৃষ্টিভঙ্গি”

  1. আমি, আমিনুল ইসলাম, সাভার বিরুলিয়া কমলাপুর বাজার, থেকে বলছি,আমার সমস্যা হচ্ছে, কমলাপুর বাজারে, একটা কমিউনিটি ক্লিনিক আছে এখান থেকে আমার আগে সব ধরনের ঔষধ পেতাম,কিন্তু এখন আমার এই সুবিধা পাচ্ছি না কোনো ঔষধ ভালো কোনো চিকিৎসা পাচ্ছি না, আমার বা আমাদের সবার অভিযোগ হলো এই ঔষধ গুলো তারা বিক্রি করে নাকি সরকার থেকে পাচ্ছে না?

    1. কমিউনিটি ক্লিনিকে নির্ধারিত তালিকার ২২ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণের কথা রয়েছে। তবে ওষুধ না থাকার কারণ হতে পারে সরকারি সরবরাহে ঘাটতি বা সরবরাহ বিলম্ব—এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে আগেও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রিপোর্ট হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Discover more from Chcpbd.com - Community Clinic

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading